প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের মানুষ জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো আপস করেনি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে তাদের কাছে দেশ।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। ৩ নভেম্বর দিবাগত রাতে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করে যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তা নস্যাৎ হয়ে যায় এবং তাবেদার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
পরাজিত অপশক্তির পরবর্তী ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাকাণ্ড এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে যে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছিল, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার সমাপ্তি ঘটেছে। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে স্বাধীনতা অর্জনের এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনকে স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই বলে অভিহিত করেন।
দল, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের পরিচয় ‘বাংলাদেশি’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিল।" তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রণাঙ্গনে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন।
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। তরুণ প্রজন্মকে ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি। জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই দিনে সবার উচ্চারণ হোক—‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কেউ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিএনসিসির ৩ হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সূচনাতেই ৭ নভেম্বরের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা প্রধানমন্ত্রী উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, জাতীয় সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।