calendar_today মঙ্গলবার, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ • ৩ নভেম্বর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
সুনামগঞ্জে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, অপপ্রচারের প্রতিবাদ বিএনপির ◆ ফরিদপুরে কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে ধর্ষণের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে ভিডিওতে অভিযুক্তদের নাম ◆ ৬৩৬ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরি, সন্দেহের কেন্দ্রে লাজারাস গ্রুপ ◆ মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ◆ চিকিৎসা ও সহযোগিতার আবেদন নিয়ে সচিবালয়ের সামনে বিএনপি কর্মী ◆ টিন থাকলেই কি রিটার্ন দিতে হবে? বাতিলের নিয়ম জানুন ◆ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন সদস্য সচিবকে সাবেক নেতাদের অভিনন্দন ◆ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প ◆ ইরানে মার্কিন হামলার খবরে বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম ◆ গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নে আশাবাদী ঢাকা: শামা ওবায়েদ ◆ কুমিল্লায় ২৭ মামলার আসামি মইন্যা ডাকাত গ্রেপ্তার, সঙ্গে ছেলে ◆ লালপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে একই গ্রামের দুই শিশুর মৃত্যু
home হোম / জাতীয় / বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার সুযোগ এসেছে: প্রধানমন্ত্রী
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার সুযোগ এসেছে: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাংলাদেশের...

person
বিশেষ প্রতিনিধি verified
Reporter
schedule প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ • সকাল ১০:০৯
history আপডেট: ৭ দিন আগে
timer ১০ মিনিট পড়ার সময়
visibility ৯৭ বার পঠিত

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুরের আগে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-তে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ওপর বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশের পরবর্তী উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় জাপানকে পাশে চায় ঢাকা।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, বাংলাদেশকে গভীরভাবে সমর্থন করে জাপান। বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে টোকিও আগ্রহী।

গার্ড অব অনার ও আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা

দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান। এ সময় জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গার্ড পরিদর্শন করেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পাশাপাশি দাঁড়ান। পরে তারেক রহমান তাঁর সফরসঙ্গীদের জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। একইভাবে তাকাইচিও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর দুই নেতা একান্ত বৈঠক ও প্রতিনিধিদল পর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেন।

বৈঠকের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন সানায়ে তাকাইচি।

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতায় গুরুত্ব

চার দিনের জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং দেশটির ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফরের অন্যতম লক্ষ্য দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে টোকিও পৌঁছান তারেক রহমান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।

সফরের প্রথম দিনে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

তারো আসোর সঙ্গে বৈঠকে ২০০৬ সালে জাপানে তাঁদের সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন তারেক রহমান। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে আসোর অবদানের স্বীকৃতি জানানোর পাশাপাশি তাঁকে আবারও বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী। পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ তথ্য জানান।

মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদনশিল্পে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।

জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে বৈঠকে অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা, চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া প্রযুক্তি গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠা, কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশলশিল্প এবং জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী যারা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

এ ছাড়া সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এবং আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সফরে আলোচনার বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।