রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রংমহল সীমান্তে ছয়জন এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে চারজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়।
মেহেরপুর সীমান্তে ছয় ঘণ্টা শূন্যরেখায় ছয়জন
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রংমহল সীমান্ত দিয়ে চার নারী ও দুই পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোর ৪টার দিকে কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে তাঁদের বাংলাদেশের দিকে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়।
সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বিজিবির সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় গ্রামবাসীর সহায়তায় বাধা দেন। ফলে ওই ছয়জন প্রায় ছয় ঘণ্টা শূন্যরেখায় অবস্থান করেন। পরে সকাল ১০টার দিকে বিএসএফ তাঁদের ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
রংমহল গ্রামের বাসিন্দা লাল মিয়া জানান, ওই ছয়জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা ঠেকাতে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনও সীমান্তে জড়ো হন। ঘন কুয়াশার মধ্যে তাঁদের ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
রংমহল বিজিবি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার বেলাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভোরে ঘন কুয়াশার সুযোগে বিএসএফ একদল মানুষকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিজিবির বাধার মুখে সকাল ১০টার দিকে তাঁদের ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ। ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া সীমান্তে চারজনকে পাঠানোর চেষ্টা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকাল পৌনে ৮টার দিকে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন ঠোটারপাড়া সীমান্তচৌকি এলাকায় দুই নারী ও দুই পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়।
বিজিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত টহল দল ১৫৩/৯-এস নম্বর সীমান্ত পিলার থেকে আনুমানিক ৫০ গজ ভারতের ভেতরে বিএসএফের ১৪৬ ব্যাটালিয়নের উদয় কিষান ক্যাম্পের সদস্যদের সন্দেহজনক তৎপরতা দেখতে পায়। এ সময় ওই চারজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা চলছিল বলে বিজিবি জানায়।
বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নিলে সকাল ৮টার দিকে বিএসএফের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে ওই চারজন ভারতের ভেতরে ফিরে যান।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল জানান, সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।
দুই সীমান্তে এসব ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা ১০ ব্যক্তির পরিচয় ও নাগরিকত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।