শনিবার (১০ অক্টোবর) বিমানবন্দরে চালানো হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি ও একজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
হামলার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে।
হামলার নিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় কড়া নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো নিরপরাধ বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞার প্রকাশ। এসব হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।
রুবিও জানান, হামলায় একজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। বেসামরিক স্থাপনায় হামলা এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগও তুলে ধরেন তিনি।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে তাঁর কথা বলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, সে বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
হুতিদের দিকে অভিযোগ
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার জন্য ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে বেসামরিক স্থাপনায় গুরুতর হামলা হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিক্রিয়া জানানোর কথা বলা হয়েছে।
তবে ১০ অক্টোবরের এই নির্দিষ্ট হামলার দায় হুতিদের পক্ষ থেকে স্বীকার করার বিষয়টি সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত নয়। এর আগে রিয়াদ বিমানবন্দরে চালানো পৃথক হামলার দায় স্বীকার করেছিল গোষ্ঠীটি। তাই আগের হামলার বক্তব্যকে বর্তমান ঘটনার দায় স্বীকার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বেসামরিক বিমানবন্দর ও অন্যান্য অবকাঠামোতে হামলার কারণে যাত্রী চলাচল, বিমান পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে।
জাতিসংঘের উদ্বেগ
ইয়েমেনবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করে, সহিংসতার চক্র দীর্ঘায়িত করে এবং ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তোলে।
হামলার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এদিকে নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের বিভিন্ন পক্ষ।
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ, সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়া এবং ইয়েমেনের সংঘাত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।