বার্নহ্যাম বলেন, ইউক্রেনকে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়াই ব্রিটেনের অবস্থান। এই নীতি তার পূর্বসূরি প্রধানমন্ত্রীদের সময়ও ছিল এবং তার নেতৃত্বেও তা অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রাশিয়া এর আগেও ইউক্রেনকে ড্রোন প্রযুক্তি ও স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের কারণে যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করেছে। তবে এবারও মস্কো কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক সমর্থক হয়ে উঠেছে যুক্তরাজ্য। দেশটি ইউক্রেনকে আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের পাশাপাশি ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণও দিয়ে আসছে।
গত জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বার্নহ্যাম তার প্রথম আন্তর্জাতিক সফরে কিয়েভ যান। এর মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রতি ব্রিটিশ সমর্থন অব্যাহত থাকার বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেন।
এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দূরপাল্লার হামলা সাম্প্রতিক সময়ে আরও তীব্র হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে ইউক্রেনে ৪৩৭ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন, যা ২০২২ সালের মে মাসের পর এক মাসে সর্বোচ্চ।
মঙ্গলবার রুশ হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ১৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পেচেনিহি গ্রামে নিহত হয়েছেন ১০ জন। সুমি, জাপোরিঝিয়া ও খেরসনেও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলে সাম্প্রতিক ইউক্রেনীয় হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। মস্কো অঞ্চলেও গত দুই দিনে শত শত ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীদের ব্যবহৃত একটি বাসস্টপে ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনায় একজন নিহত ও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে। তবে হামলাটি কারা চালিয়েছে, তা নিশ্চিত করা হয়নি। আইএইএ জানিয়েছে, এতে পারমাণবিক নিরাপত্তা বা স্থাপনার ওপর কোনো ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মস্কোর উত্তেজনার মধ্যে ইউরোপে সম্ভাব্য ‘হাইব্রিড হামলা’ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জার্মানিসহ কয়েকটি দেশ সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও শিল্প স্থাপনার কাছে ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে।