calendar_today বৃহস্পতিবার, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ • ৫ নভেম্বর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নওগাঁয় শিক্ষার্থী নিহত ◆ পোশাকশ্রমিকরা কাজে ফিরছেন ◆ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রভাব: বিশ্ববাজারে টানা চার দিন কমল জ্বালানি তেলের দাম ◆ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে বক্তব্যের জের: নাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশ ◆ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার মহোৎসব: উজিরপুর উপজেলায় তোলপাড় ◆ দেশে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৫৪৮২ টাকা ◆ ইরানকে সহায়তার দায়ে ভারত ও তুরস্কের একাধিক কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ◆ মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চলে তৈরি হবে জ্বালানি অবকাঠামো, প্রধানমন্ত্রী ◆ জামজামী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পলাশ আহমেদকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ◆ গবেষণা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা: অধ্যাপক মতিনুর রহমানের নেতৃত্বে ইবির নতুন উদ্যোগ ◆ ‘জেন-জিদের রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূরণ হয়নি’: মাহমুদুর রহমান ◆ বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিচয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শাস্তি, উদ্বিগ্ন এইচআরডব্লিউ
home হোম / সম্পাদকীয় / দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে ইরান যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া মোকাবিলায়
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
সম্পাদকীয় বিশেষ প্রতিবেদন

দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে ইরান যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া মোকাবিলায়

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বর্বর হামলা, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ৪৮ শীর্ষ কর্মকর্তা ও ৪০ সামরিক কমান্ডার হত্যা, সামরিক-বেসামরিক বহু স্থাপনা ধ্বংস, সর্বোপরি ইরানের সার্বভৌমত্ব লংঘনের নিন্দা...

person
বাংলার ডাক verified
Staff reporter
schedule প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ • দুপুর ০২:১৩
history আপডেট: ৮ মাস আগে
timer ৮ মিনিট পড়ার সময়
visibility ৩৪৩ বার পঠিত

ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অধিকতর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। আমাদের দেশ জ্বালানির ক্ষেত্রে পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানির প্রায় সবটাই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আমদানি করতে হয়। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানি ও পরিবহন ব্যহত হতে পারে। ফলে, জ্বালানির সংকট দেখা দিতে পারে। জ্বালানির সংকট মানে পরিবহন সেক্টরগুলোতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট সৃষ্টি হওয়া। কৃষি ও শিল্পের উৎপাদনে এর বিরূপ প্রভাব পড়াও স্বাভাবিক। জ্বালানি সংকটের কারণে কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে অভ্যন্তরীণ বাজারেও দাম বেড়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে এবং মূল্যস্ফীতিতে লাগাম টানা সম্ভবপর হবে না। জনগণকে এর খেসারত গুণতে হবে। বলা অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অর্থের যোগান আসে প্রধানত দুটি খাত থেকে। একটি রফতানি খাত থেকে, যার ৮৪ শতাংশই তৈরি পোশাক থেকে আসে। তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অপরটি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স খাত থেকে, যার অধিকাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে দেশের প্রায় ৭০ লাখ মানুষ বিভিন্ন কর্মে নিয়োজিত। তারা সেখানে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠায়, যা দিয়ে তাদের পরিবার-পরিজন চলে এবং জাতীয় অর্থনীতি অর্থের বড় যোগান লাভ করে। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় জনশক্তি রফতানি ও রেমিট্যান্স প্রাপ্তি কমে যাওয়ায় বা ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিমানের ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে। ১২ ঘণ্টায় অন্তত ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। এসব ফ্লাইটের যাত্রীরা অপরিসীম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। প্রবাসীদের নিরাপত্তার প্রশ্নও এখন বড় হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ প্রলম্বিত হলে এ খাতের সার্বিক পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা কেবল ভবিতব্যই বলতে পারে। শুধু তাই নায়, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য রফতানি হয়। ওইসব দেশে থেকেও নানা ধরনের পণ্য আসে। পরিস্থিতিগত কারণে পণ্যের এ গমনাগমন বন্ধ বা ব্যহত হতে পারে, যাতে বাংলাদেশের সমূহ ক্ষতি। লক্ষ করা গেছে, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আমাদের দেশও ব্যতিক্রম নয়। ইতোমধ্যে শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটেছে। অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া এখনো ততটা দৃশ্যমান হয়নি, তবে হবে তাতে সন্দেহ নেই।

যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আমাদের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উৎপাদিত পণ্য, আমদানি, রফতানি, জীবন যাপনÑ সকল ক্ষেত্রেই সংকট ও বিপর্যয় বাড়বে। এহেন আশঙ্কার প্রেক্ষিতে এখনই আমাদের সতর্ক হতে হবে, সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপযুক্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। তিনি ইতোমধ্যে এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানি তেল, এলপিজি এবং এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। বলা নিষ্প্রয়োজন, জ্বালানি উন্নয়ন-অগ্রগতির অপরিহার্য উপকরণ। জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর তাই সব দেশই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। আমরা জ্বালানির ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভর হওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী সে কারণেই জ্বালানি সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, সমস্যা হবে না। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শুধু জ্বালানিই নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও কী ধরনের সংকট বা সমস্যা দেখা দিতে পারে, তা নিয়ে পর্যালোচনা করা অত্যাবশ্যক। এ জন্য প্রয়োজন হলে প্রতিদিনই সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠকে বসতে হবে। অর্থ পরিকল্পনা, বাণিজ্য, জ্বালানি, বৈদেশিক কর্মসংস্থানসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব বৈঠক ছাড়াও মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত বৈঠক হওয়া দরকার। পরিস্থিতি মোকাবিলার একটি সম্পূর্ণ পরিকল্পনা যত দ্রুত সম্ভব প্রণয়ন করা সময়েরই দাবি। কেবল পরিকল্পনা প্রণয়ন নয়, তা বাস্তবায়নেও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।