calendar_today বৃহস্পতিবার, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ • ৫ নভেম্বর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নওগাঁয় শিক্ষার্থী নিহত ◆ পোশাকশ্রমিকরা কাজে ফিরছেন ◆ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রভাব: বিশ্ববাজারে টানা চার দিন কমল জ্বালানি তেলের দাম ◆ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে বক্তব্যের জের: নাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশ ◆ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার মহোৎসব: উজিরপুর উপজেলায় তোলপাড় ◆ দেশে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৫৪৮২ টাকা ◆ ইরানকে সহায়তার দায়ে ভারত ও তুরস্কের একাধিক কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ◆ মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চলে তৈরি হবে জ্বালানি অবকাঠামো, প্রধানমন্ত্রী ◆ জামজামী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পলাশ আহমেদকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ◆ গবেষণা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা: অধ্যাপক মতিনুর রহমানের নেতৃত্বে ইবির নতুন উদ্যোগ ◆ ‘জেন-জিদের রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূরণ হয়নি’: মাহমুদুর রহমান ◆ বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিচয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শাস্তি, উদ্বিগ্ন এইচআরডব্লিউ
home হোম / অর্থনীতি / বাংলাদেশের অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
অর্থনীতি বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলাদেশের অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে

বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থনীতি আগামীতে বৈশ্বিক ও দেশের ভেতর থেকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে এগোতে হবে। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে বাড়তি শুল্ক আরোপের কারণে বিশেষ করে পোশাক রপ্তানিতে...

person
বিশেষ প্রতিনিধি verified
Reporter
schedule প্রকাশ: রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫ • দুপুর ০২:২২
history আপডেট: ১ বছর আগে
timer ৮ মিনিট পড়ার সময়
visibility ৬১৪ বার পঠিত

বৃহস্পতিবার রাতে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের অনুকূলে ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি ছাড় উপলক্ষ্যে আইএমএফ সার্বিক অর্থনীতির একটি মূল্যায়ন করেছে। এতে দেশের অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও সম্ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরেছে। পাশাপাশি আইএমএফের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী কোন সময়ের মধ্যে কী কী সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে সেগুলোর একটি পরিকল্পনাও দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিকভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আবার বেড়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। এতে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ও বাড়বে। তখন দেশটি বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতির ওপর চাপ পড়বে। চলতি অর্থবছরে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের স্থিতির ঘাটতি জিডিপির হারে কমলেও আগামী বছরগুলোতে তা বেড়ে যেতে পারে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে ঘাটতি জিডিপির সাড়ে ৩ শতাংশের মধ্যে নেমে আসতে পারে। কিন্তু আগামী বছরগুলোতে এ ঘাটতি ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে আইএমএফ। এতে ডলার বাজারের ওপর চাপ বাড়বে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বেশ ভালোভাবেই প্রভাবিত করে। কারণ দেশটির রেমিট্যান্সের বড় অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। এসব দেশে অস্থিরতা তৈরি হলে রেমিট্যান্স প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানির অভাবে দেশের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বা বিশেষ করে উৎপাদন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ওপর ট্রাস্প প্রশাসন যে বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছে তাতে পোশাক রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে। কারণ রপ্তানির আয়ের প্রায় ৮৬ শতাংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। তৈরি পোশাকের ৫৪ শতাংশই রপ্তানি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে।

রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি যে ক্ষতের মধ্যে পড়েছে তা এখনো সেরে উঠতে পারেনি। এর মধ্যে এসব সংকট দেখা দিলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এসব সংকট মোকাবেলার জন্য আইএমএফ বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি এ খাতে ভর্তুকি কমিয়ে বাজেটের ওপর চাপ কমানোর কথা বলেছে। জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত হলে উৎপাদন খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার হবে। তখন তারা বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে। এতে অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক বিষয়ে একটি সন্তোষজনক সমাধানের কথা বলা হয়েছে; যাতে পোশাক রপ্তানি বাধাগ্রস্ত না হয়। পাশাপাশি রপ্তানির ক্ষেত্রে একক পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখী করার সুপারিশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে আমদানি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশে কৃষিপণ্যের ওপর উৎপাদন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে বিভিন্ন খাতে লক্ষ্য অর্জনের সময় সীমাও বেঁধে দিয়েছে। এর মধ্যে চলতি জুনের মধ্যে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ব্যাপকভাবে সংস্কার করতে হবে। এ বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। করদাতাদের হয়রানি কমাতে ই-রিটার্ন পদ্ধতি চালু করতে হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে করদাতাদের উন্নত সেবা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে এনবিআরকে। সব ধরনের কর ছাড় বন্ধ করতে হবে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে। চলতি জুনের মধ্যে সরকারি লেনদেনের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ অনলাইনে করতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়দেনা নিশ্চিত করতে তা পরিশোধ করতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঋণকে বেসরকারি খাতের মতো করে শ্রেণিবিন্যাসিত করতে হবে। এটি বাস্তবায়ন করতে হবে চলতি মাস জুনের মধ্যে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিন বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি এ খাতে দেওয়া ভর্তুকি শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। বিনিময় হারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এককভাবে বাংলাদেশ ব্যাংককে দিতে হবে। এ খাতে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কোনো হস্তক্ষেপ করা যাবে না।

আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে মুদ্রানীতি প্রণয়নের ও বাস্তবায়নের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।