calendar_today মঙ্গলবার, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ • ৩ নভেম্বর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
সুনামগঞ্জে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, অপপ্রচারের প্রতিবাদ বিএনপির ◆ ফরিদপুরে কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে ধর্ষণের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে ভিডিওতে অভিযুক্তদের নাম ◆ ৬৩৬ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরি, সন্দেহের কেন্দ্রে লাজারাস গ্রুপ ◆ মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ◆ চিকিৎসা ও সহযোগিতার আবেদন নিয়ে সচিবালয়ের সামনে বিএনপি কর্মী ◆ টিন থাকলেই কি রিটার্ন দিতে হবে? বাতিলের নিয়ম জানুন ◆ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন সদস্য সচিবকে সাবেক নেতাদের অভিনন্দন ◆ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প ◆ ইরানে মার্কিন হামলার খবরে বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম ◆ গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নে আশাবাদী ঢাকা: শামা ওবায়েদ ◆ কুমিল্লায় ২৭ মামলার আসামি মইন্যা ডাকাত গ্রেপ্তার, সঙ্গে ছেলে ◆ লালপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে একই গ্রামের দুই শিশুর মৃত্যু
home হোম / অর্থনীতি / ১২ কেজির সিলিন্ডারে ৫০০–৬০০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ, ব্যবস্থা চায় ক্যাব
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
অর্থনীতি বিশেষ প্রতিবেদন

১২ কেজির সিলিন্ডারে ৫০০–৬০০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ, ব্যবস্থা চায় ক্যাব

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ও সংশ্লিষ্ট চার্জ না বাড়িয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।...

person
বাংলার ডাক verified
Staff reporter
schedule প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ • দুপুর ০১:২৯
history আপডেট: ৬ দিন আগে
timer ৮ মিনিট পড়ার সময়
visibility ১১৫ বার পঠিত

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ক্যাবের তথ্য কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৯ অক্টোবর সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির মূল্যহার পরিবর্তনসংক্রান্ত গণশুনানি আয়োজন করেছে বিইআরসি। এ উপলক্ষে গত ২৬ অক্টোবর কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো চিঠিতে ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

চিঠিতে বলা হয়, নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত না করে আবারও দাম ও সংশ্লিষ্ট চার্জ বাড়ানো হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।

ক্যাবের চিঠি অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাতে সংগঠনটি জানায়, নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

মূল্যবৃদ্ধির আগে ব্যয় যাচাইয়ের দাবি

ক্যাব বলেছে, পাইপলাইনের গ্যাসসুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর জন্য এলপিজি রান্নার অপরিহার্য জ্বালানি। খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের ব্যয় মেটানোর পর রান্নার জ্বালানিতে অতিরিক্ত খরচ বহন করা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য কঠিন। তাই নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির আগে বিদ্যমান মূল্য আদেশ কার্যকর করা জরুরি।

সংগঠনটির মতে, আমদানিকারকদের ব্যয় বৃদ্ধির দাবি প্রকৃত লেনদেনের দলিল ও নিরীক্ষিত হিসাবের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়লেই স্থানীয় পরিবহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যয় একই হারে বাড়ে না। ফলে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তিতে সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে চার্জ ও কমিশন বাড়ানোর যৌক্তিকতা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

একই ব্যয় একাধিকবার হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা কিংবা পরিচালনাগত অদক্ষতার দায় ভোক্তাদের ওপর চাপানো যাবে না বলেও জানিয়েছে ক্যাব।

ক্যাবের সাত দফা দাবি

এলপিজির বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সাত দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। দাবিগুলো হলো—

১. এলপিজির দাম ও সংশ্লিষ্ট চার্জ না বাড়িয়ে বিইআরসির নির্ধারিত মূল্যে ভোক্তাপর্যায়ে সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে।

২. কৃত্রিম সংকট তৈরি, মজুত গোপন, সরবরাহ সীমিত করা ও অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ী অপারেটর, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।

৩. নিরীক্ষিত হিসাব ও নিরপেক্ষ কারিগরি মূল্যায়নে প্রয়োজনীয়তা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত চার্জ ও কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করা যাবে না। অযৌক্তিক ব্যয় ও অতিরিক্ত মুনাফা মূল্য নির্ধারণের হিসাব থেকে বাদ দিতে হবে।

৪. আমদানি ব্যয় এবং মজুতকরণ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণ চার্জের পৃথক হিসাব প্রকাশ করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যয় কমলে তার সুবিধা সময়মতো ভোক্তাদের দিতে হবে।

৫. সরকারি এলপিজির ব্যয় পৃথকভাবে মূল্যায়ন করে স্বচ্ছ বরাদ্দ ও বিতরণব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের সাশ্রয়ী মূল্যে গ্যাসপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৬. প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্রে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন ও বিক্রির রসিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে। পরিবহণ ও বাসায় পৌঁছে দেওয়ার চার্জ সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে অননুমোদিত অর্থ আদায় বন্ধ করতে হবে।

৭. অতিরিক্ত দাম, সিলিন্ডার না পাওয়া, কম ওজন ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযোগের প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে।

গণশুনানিতে ভোক্তাদের অভিজ্ঞতা বিবেচনার আহ্বান

গণশুনানিতে আবেদনকারীদের প্রস্তাব ও কমিশনের কারিগরি মূল্যায়নের পাশাপাশি ভোক্তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে ক্যাব। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কোন ব্যয় গ্রহণ বা বর্জন করা হয়েছে এবং উত্থাপিত আপত্তিগুলো কীভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যাও চেয়েছে সংগঠনটি।

ক্যাবের প্রত্যাশা, মূল্য ও চার্জ বাড়ানোর পরিবর্তে নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দাম আদায় বন্ধে বিইআরসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।