বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।’ কিন্তু আমরা কি সংবিধানের এই মৌলিক অধিকারের বিধান মানছি? এই দেশে কিছু মানুষ আছেন যারা আইন ও বিচারের ঊর্ধ্বে। ধরাছোঁয়ার বাইরে। তারা অপরাধ করলেও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ান। আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। তাদের অপকর্মের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত পর্যন্ত হয় না। সুশীল মুখোশ পরে এরা অনিয়ম করেন, কিন্তু কেউ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না। সাম্প্রতিক সময়ে শিশুহত্যা নিয়ে আইনের বৈষম্য আমাদের চোখের সামনে উন্মোচিত হলো। ঈদের আগের দিন রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। গোটা দেশ এই ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়। সরকার এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার কথা রেখেছেন। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালটির নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে পাঠানো এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে চিঠিটি পাঠিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ)। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপনার আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে।’
ছয় শিশুর মৃত্যুর বিচার হয়, ছয়শ শিশুর ঘাতকরা শাস্তি পায় না!*