মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে পালাচ্ছে মার্কিন রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড,ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

Total Views : 7
Zoom In Zoom Out Read Later Print

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝেই এক চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এবং শক্তিশালী মার্কিন বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড' লোহিত সাগরের রণক্ষেত্র ছেড়ে গ্রিসের সুদা বে-র দিকে রওনা হয়েছে বলে জানা গেছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রণতরীটির লন্ড্রি এরিয়া বা ধোপাশালায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের ফলে অন্তত দুইজন নৌসেনা আহত হয়েছেন। যদিও তাদের আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানানো হয়েছে। তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্রুদের প্রায় ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে এবং এর ফলে ৬০০-র বেশি ক্রু তাদের থাকার জায়গা (বঙ্ক স্পেস) হারিয়েছেন। এই ঘটনার পরপরই রণতরীটি তার বর্তমান অবস্থান পরিবর্তন করে বন্দরের দিকে যাত্রা শুরু করে।

মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে রণতরীটির বর্তমান অবস্থা বা এর সাথে থাকা অন্যান্য যুদ্ধজাহাজগুলো ওই অঞ্চলে থাকবে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফোর্ড-এর স্ট্রাইক গ্রুপ লোহিত সাগরে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। তারা আরও দাবি করেছে যে, জাহাজের প্রপালশন সিস্টেম বা ইঞ্জিন সচল রয়েছে এবং এটি পুরোপুরি কার্যকর আছে।

 

অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অপর একটি মার্কিন রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন' মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেটি পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন এই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে কিছু ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে রণতরীটিকে লোহিত সাগরে স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, ১ লাখ টন ওজনের পারমাণবিক শক্তিচালিত 'ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড' বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল যুদ্ধজাহাজ। এতে ৪ হাজারেরও বেশি ক্রু এবং কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এই বিশাল রণতরীটি মোতায়েন করেছিল। বর্তমানে লোহিত সাগর ও ওমান সাগরে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান এবং ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

See More

Latest Photos